রবিবার - কলকাতা



ছলনা

Added by Anonymous, Posted on 2014-05-06,09:02:53 p

Ratings :
Rate It:


ছলনা

 

রীতশ্রী, সুভম খুব ভালো বন্ধু বটে কিন্তু একে অপরকে কোন দিন চিনতো না।

তাদের প্রথম দেখা কলেজ এর প্রথম দিন এ,

- সবাই সবার নিজের মতো গল্প করছে। সুভমের নতুন বন্ধু দীপ এর সঙ্গে গল্প করছে , ঠিক এমন সময় রীতশ্রী এসে সুভম এর পাশের বেঞ্চে বসল। সুভম একটু করে গল্প করে আর রীতশ্রীর দিকে তাকায়।

 

দীপ - কিরে কি হল ? উঁকিঝুঁকি মারছিস কেন ?

সুভম - না রে ওই এমনি ।

 

- তারপর কথায় কথায় সুভম জানতে পারলো রীতশ্রী ওর পাড়াতেই থাকে অথচ ও জানত না। যাইহোক এতাও জানতে পারলো যে রীতশ্রী অন্য বিষয় ভর্তি হয়ছে। এটা জেনে সুভম মনে মনে ভাবল "যাহ কি মিস্তি মেয়েটা আমার সঙ্গে যদি পড়ত ভালো হত !" ভাবে মন খারাপ করে বসল।

 

- চলতে থাকল দিনের পর দিন... অন্য বিষয় তো কি হয়ছে অরা আসতে আসতে ভালো বন্ধু হয় গেল। আবার ঘটনাক্রমে রীতশ্রী সুভমের সঙ্গেই নতুন করে ভর্তি হয়গেল, সুভম তো আনন্দে আটখানা।

 

সুভম - ভালই হল...

রীতশ্রী - কেন বলত ?

সুভম (লজ্জায়) - না এমনি ওই আর কি...

 

- আসতে আসতে দিন যেতে থাকে আর ওদের বন্ধুত্ব আর গভির হয় ওঠে, চলতে থাকে দিনরাত ফেসবুক, জি-টক, এসএমএস এ গল্প - রাগ - অভিমান। রীতশ্রী সুভম এর খুব কাছের একজন হয় উথতে থাকে - সুভমের সঙ্গে সারাক্ষণ কাটানো, গল্প করা, ঘনিস্ট ভাবে মেশা, মনের সব কথা শেয়ার করা সব কিছুকে সুভম ভালবাসা মনের করে আর আসতে আসতে মনটা রীতশ্রীকে দিয়ে ফেলে। রীতশ্রী কিন্তু সব সময় ভালো বন্ধু মনে করে মিশত কিন্তু সুভম একটা সাধাসিধে ছেলে ভালবেসে ফেলে রীতশ্রীকে। যখন মনটা পুরোটাই দিয়ে ফেলে সুভম রীতশ্রীকে আর নিজের মনকে সামলাতে না পেরে রীতশ্রীকে নানা কথার মধ্যে বলতে থাকে যে ও রীতশ্রীর প্রেমে পরে গেছে। আর রীতশ্রী হল এমন একটা মেয়ে যে এইসব কথার মাঝের কথা বুঝতে পারেনা কক্ষনো যতক্ষণ না তাকে ধরে বেধে কেউ বুঝিয়া দিচ্ছে। সুভমও হাল ছারে না সে এই ভাবে কথার মাঝে মাঝে বলতেই থাকে।

 

-একদিন মনে জোর নিয়ে একটা গোলাপ কিনল সুভম আর রীতশ্রীকে দেখা করতে বলল পার্কে...

 

রীতশ্রী - দেরি হয় গেল রে একটু...! কখন এসেছিস তুই ? 

সুভম - না না... আমিও এই এক্ষুনি এলাম... বস...

রীতশ্রী - হ্যাঁ কি বলবি বলছিলিস ?

সুভম - না মানে হ্যাঁ মানে ওই আর কি...

রীতশ্রী - এরম ঘাবড়ে জাচ্ছিস কেন ? কি হয়ছে রে ? এই ফুল টা কার ? 

সুভম (ঘাবড়ে গিয়ে ফুল টা ওর হাতে দিল) - না মানে তোকে এখন এইতার মতই সুন্দর লাগছে...

রীতশ্রী (হেঁসে) - তাই ? আর কিছু না ?

সুভম - ধ্যাত আমার দারা হবে না...!

রীতশ্রী - কি ?

সুভম - কি ভাবে বলব বুঝতে পারছি না...আমি তোকে ভালবাসি ...খুব ভালবাসি।

রীতশ্রী (সুভমের মাথার চুল ঘেঁটে দিয়ে) - দুষ্টু ! 

 

- এই বলে হাস্তে হাস্তে চলে গেল বাড়ি। এই দেখে সুভম লাফাতে লাফাতে বাড়ি গেল আর মনে মনে ভাবল "কতটা যে খুশি আমি আজ কাকে বলব ? রীতশ্রীও আমায় ভালবাসে যখন তখন আগেই তো বলতে পারত..."

 

- এমনই চলতে লাগল দিন গুলো হাঁসি ঠাট্টা রাগ অভিমান এর মধ্যে দিয়ে, তাদের প্রথম পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই রীতশ্রী চলে গেল দূরদেশে ঘুরতে সুভম কথা বলতে পাড়ে না, দেখতে পাড়ে না, গল্প করতে পাড়ে না, মনের কথা বলতে পাড়ে না... এরম করতে করতে অতিস্ট হয় গেল সুভম, খালি ভাবে কবে আসবে ও ফিরে কবে... 

 

- ফিরল তো ঠিকই রীতশ্রী কিন্তু অদ্ভুত ভাবে আচরণ করতে থাকল সুভমের সাথে... সুভম কিছু বুঝতে না পেরে রীতশ্রীকে রোজ জিজ্ঞাস করতে কেন এরম করছে সে... কিন্তু কোন উত্তর আস্ত না... দেখা করতো না... কথা বলত না... সুভম মন মরা হয় উঠল আসতে আসতে। 

 

- কলেজ খুলতেই রীতশ্রী সুভমের সঙ্গে কন কারণ ছারাই ঝগড়া করে বসল। সুভম কিছু না বলে মনের কষ্ট মনে রেখে দিল। কিছুদিনের মধ্যেই জানতে পারলো রীতশ্রী অন্য একটা ছেলেকে ভালবাসে তার সঙ্গেই সবসময় কথা বলে, ঘুরতে যায়, সবসময় থাকে...। 

 

- সুভম দুঃখে কষ্টে ক্ষতবিক্ষত হয় রীতশ্রীকে জিজ্ঞেস করে "কেন আমাকে সেইদিন ফিরিয়া দিসনি ? কেন এতদিন ছলনা করলি ?" 

 

- উত্তরে রীতশ্রী বলল "আমি কক্ষনো তোকে বলেছিলাম কি যে আমি তোকে ভালবাসি ?"

 

- তারপর সুভম আর কথা বলতনা ওর সাথে একা একা কষ্ট পেত, নির্জন জায়গায় গিয়া একা একা কাঁদত... কিন্তু সে সত্যি রীতশ্রীকে ভালবেসেছিল, সে থাকতে পারতনা ওকে ছাড়া... 

 

- একদিন নিজের মনলকে বঝাল "রীতশ্রীর খুশি তেই আমি খুশি। ও খুশি থাক যার সাথেই থাক।" আসতে আস্তে একটু একটু করে কথা বলতে লাগল ওর সাথে, রীতশ্রীও আসতে আসতে ওর আর সেই ছেলে তার গল্প করতে থাকল ওর সাথে। এবার শুধু বন্ধু হয়েই থাকতে চেয়েছিল সুভম, কিন্তু একটা অজানা ঝর রীতশ্রীর সম্পরক ভেঙ্গে দিল। রীতশ্রী দুঃখে কাঁদে , রোজ সুভমকে নিজের দুঃখের কথা বলে, আর সুভমও রীতশ্রীর দুঃখ দেখতে পাড়ে না, ওর ও কষ্ট হয়। কিছু করার নেই দেখে আবার আগে মত ঘনিস্ট হয় যায় রীতশ্রী ,কিন্তু এবার একটু বেশি ঘনিস্ট হয় যায়। 

 

-কিছু দিন এর মধ্যে সুভম জিজ্ঞেস করে - এবার কি আমায় ভালবেসে দেখবি ? আমি কোন দিন তোকে কষ্ট দেব না দুঃখ দেব না, তোর সব কষ্ট আমি ভাগ করে নেব।

 

রীতশ্রী - আমার কোন অসুবিধা নেই, কিন্তু একটু সময় দে আমায়।

সুভম - যত সময় নিবি নে কিন্তু আমায় ছেরে কোনদিন যাস না রে... মরে জাব আমি।

 

- এবার সত্যি সত্যি তারা একটা ঘনিস্ট সম্পরকে চলে আসে কিন্তু রীতশ্রী বলে যে আর কেউ যেন না জানতে পাড়ে... কিন্তু কেন বলছে সেটা সুভম বুঝতে পারত না। যাইহোক তারা খুব খুশিতে ছিল সারা রাত গল্প হাঁসি ঠাট্টা আব্দার চলত। রীতশ্রীর কোন আব্দারই সুভম ফেলে দিতে পারত না , যেভাবেই হোক পুরন করতো। আসতে আসতে একে অপরের বাড়ি যেতে লাগল, সুরু হল তাদের দুই পরিবারের সঙ্গে আলাপ করা, একে অপরকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা, খাওয়া ,ঘোরা আর কতকিছু।

 

- কিন্তু সুভম এর পোরা কপাল, সম্পর্কটা কয়েক মাসের বেশি টিকলো না। কয়েক মাস যেতেই রীতশ্রী আবার অন্য একটা ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পরল তাও আবার সুভমের চোখের সামনে। সুভম আবার ভাঙা হৃদয় হাতে নিয়ে রীতশ্রীর কাছে যেতেই রীতশ্রী বলল "কেন এরম করছিস বলত আমি সময় চেয়েছিলাম ...আমি কি কক্ষনো তোকে বলেছি আমি ভালবাসি তোকে ? আমি ভালো থাকতে চাই তাই আমি এই নতুন সম্পর্কের সূচনা করলাম।"

 

- সুভম আর কষ্ট সহ্য্ করতে না পেরে বেস কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করল। কিন্তু তার বন্ধুরা তাকে বাঁচিয়ে দিল আর বলল "তোর মতো বোকা কাউকে দেখিনি আখন ওকে ভালবাসিস কি জন্য ?"

 

সুভম - আমাকে বুঝিয়ে কি হবে ? মনতো কথা শোনে না।

 

- কিছু দিন যেতে না যেতেই সুভম বোকার মতো আবার রীতশ্রীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নিল। আবার সেই একি ঘটনা ঘটল আবার তারা ভালো বন্ধু হল। আবার রীতশ্রী সুভমকে কষ্ট দিল, কিন্তু এবার অন্য ভাবে, রীতশ্রী বলত "তুই আমার ভালো বন্ধু" কিন্তু কক্ষনো ভালো আচরণ করতো না। কথায় কথায় ঝগড়া, কথায় কথায় বিনাদোষএ চেল্লানো, এসএমএস ,ফেসবুক এ কথা না বলা ইত্যাদি। খালি বলত "তোকে আমি কাছের ভাবি তাই জোর দেখাই, যাদের ওপর জোর থাকে তাদের ই জোর দেখান যায়"।

- কিন্তু অন্য কারোর সঙ্গে সেরকম আচরণ করতো না, এমন কি তখনও অন্য দের সঙ্গে ভাল আচরণ করতো যখন সুভম এর সঙ্গে ওরকম করতো। সুভম এর মনে একটা কথাই প্রবেশ করিয়া দিল রীতশ্রী যে যতই বলুক সুভম ভালো বন্ধু কিন্তু আসলে সহ্য করতে পাড়ে না। সুভমও আর কিছু বলত না রীতশ্রীকে, ও ওর মতো থাকত, আর নিজের ভাগ্যের কথা ভাবত। 

 

- অবশেষে তাদের কলেজ শেষ হল, আর কোন দিন দেখা হয়নি ওদের তারা তাদের নিজের জীবনে ব্যাস্ত হয় পরে। 

 

- বেশ কয়েক বছর পর রীতশ্রীকে উদ্দেশ্য করে একটা চিঠি লিখে পাঠায় সেটা আদৌ খুলে পোরা হয়ছে কিনা সুভম কোন দিন জানতে পারেনি।

 

চিঠি তে লেখা ছিল "ধন্যবাদ আমার চোখ খুলে দেবার জন্য, আমায় হৃদয় টাকে কঠিন করে দেবার জন্য... আমি ভালো আছি ...খুব ভালো আছি......... তোকে ছাড়াই...।।"

 

লিখেছেন Anonymous


Message Lekha Somorgro

আপনার মন্তব্য



Submit Your Writings

নতুন লেখালিখি গুলি

জনপ্রিয় লেখা গুলি