শনিবার - কলকাতা



কথোপকথনঃ ফিলিং লাভড

Written by Sayantan Halder, Posted on 2016-10-18,01:11:57 a

দিন বদলেছে, মানুষজন এখন টিভি সিরিজ টিভিতে নয় অনলাইনে দেখতে বেশী পছন্দ করে। বদলেছে সিনেমা এবং সিনেমা বানানোর ধরন। ৩ ঘনটার সিনেমা এসে দাঁড়িয়েছে ১৫ মিনিটে। এইসবের ভিড়ে কোথায় জানো হারিয়ে গেছে সত্যজিৎ রয়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটক, তপন সিনহার উত্তরসূরিরা । বাংলা সিনেমা এখন কেউ দেখেনা। বাংলা ভালো সর্ট ফিল্ম এখন তৈরি হয়না। এমনই চিন্তা ভাবনা সকলের।

এমন অবস্থায় কিছু নবীন দল অনগরত চেষ্টা করছে, এই নতুন প্যটার্নকে তুলে ধরার। সদ্য প্রকাশিত তাদের ছোটো ছবি "ফিলিং লাভড" । ওদের সাথে কোথা বললাম আমরা -

 

কথোপোকথন- অংশু বাচ্ 

কেন এতদিন পর এসে শর্ট ফিল্মকে বাছলেন?
পড়াশুনার জন্য নেওয়া ব্রেক। কিন্তু ভাল কাজের লোভ সামলাতে পারলাম না। English vs English নামের একটা ফিচার ফিল্মও করলাম,সেটাও মুক্তি পাবে। রজতে স্ক্রিপ্টটাটা খুব ফ্রেশ।

আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন-             
রজতের সাথে প্রথম কাজ মনেই হয়নি। রজত খুবই ফ্রেন্ডলি। এই ফিল্ম টা খুব ছিমছাম, ১৫ মিনিটের সীমিত সময়, কিন্তু খুবই এন্টারটেইনিং হবে। আর রোমান্টিক ফিল্মে মূল ব্যাপার গুলো একই থাকে, উপস্থাপনাটা ভিন্ন হয়। রজতের লেখার ধরন বেশ অন্যরকম। আর পুরো টিম অসম্ভব ফ্রেন্ডলি। কাজের সময় এই পরিবেশটা খুব দরকার। আমার মনে হয় "গুডবাই"-এর মত এই কাজটাও জনপ্রিয় হবে।


কিভাবে হল পুরো ব্যাপার টা?
ছবির নায়িকা। ও ই আমাকে প্রথম স্ক্রিপ্ট আর রজতের আমার সাথে কাজ করার ইচ্ছের কথাবলে। তারপর আমি "গুডবাই" দেখলাম, ভাল লাগলো। আমি তখনই হা বলে দিলাম।(হাসি)।  ভাল লোকেশন র টিম ওয়ার্ক নিয়ে ছবিটা বানানো।


দর্শকদের কি বলবেন?
দর্শককে অনুরোধ, বাংলা সিনেমা দেখুন, শর্ট হোক বা ফুল। তাদের হাতেই এই ইন্ডাস্ট্রিটার উন্নতি লুকিয়ে। বাংলা ছবি দেখা নিয়ে নাক সিটকানো মনোভাব দূর করা উচিত। আর শর্ট ফিল্ম হল ভবিষ্যৎ। টি২০ যেমন এখন জনপ্রিয়। ফেস্টিভাল সিজনে আমাদের ছবি আসছে, দেখুন আর মতামত জানান; এটাই আমাদের বড় প্রত্যাশা। 


আপনাকে আবার কবে পর্দায় দেখা যাবে?
খুব শিগগিরই। আমার ডেবিউ ফিল্ম  “English vs English” আসছে। আশা করছি আমি আগের মতই মানুষের ভালবাসা পাব।


কথোপোকথন- লহড়ী চক্রবর্তী


রজতের সাথে ২য়, এবং নিজেরও ২য় ছবি, কেমন অভিজ্ঞতা?
হা এটা আমার ২য় শর্ট  ফিল্ম। রজত এর সাথে ছবি করার অভিজ্ঞতা খুবই ভাল। যেহেতু আগে একটা শর্ট  ফিল্ম অলরেডি হয়ে গেছে তাই ওর সাথে কাজ করতে আমি খুব স্বতস্ফূর্ত । হে ইস আ ভেরি নাইস ডিরেক্টর নো ডাউট। যেহেতু শর্ট  ফিল্ম, তাই খুব ফাস্ট শুট করতে হয়েছিল আমাদের। একটা গোটা ফিল্ম একদিন এর মধ্যে।  রজত খুবই সাহায্য করেছে পুরো ব্যাপারটায়।


আগের ছবিটাও যেমন ঠিক নায়ক কেন্দ্রিক ছিল না, এটাও কি তাই?
না, এই শর্ট  ফিল্মটা “গুডবাই” এর থেকে একদম আলাদা। এখানে হিরো-হিরোইন দুজন বেস্ট ফ্রেন্ড। তাউ পুরো ফিল্মেই দুজনকেই একি প্রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে।


পরিচালক হিসেবে কত নম্বর দেবেন ?
(হাসি) আমি কে নম্বর দেওয়ার? আমি খুব একটা মার্কিং-এ বিশ্বাস করি না। রজত ট্যালেন্টেড। আগেই বললাম, ও খুব তাড়াতাড়ি শুট করে, একি সাথে খুব তাড়াতাড়ি গল্পও বানিয়ে নেয়। ওর ভবিষ্যত-এর জন্য শুভ কামনা।

দর্শকদের কি বলবেন?
শর্ট ফিল্মস এখন অনেক হচ্ছে যার বেশীরভাগটা ইন্টেলেকচুয়াল স্টোরি। এটায় সেরকম কিছু নেই। এটা রোম্যান্টিক কমেডি। এন্টারটেইনমেন্ট টাই বেশী। আশা করছি দর্শকের ভাল লাগবে। এখন প্রচুর পরিমানে মানুষ সোশ্যাল নেটওয়ার্ক-এ অভ্যস্ত, সবাইকে বলবো প্লিস ছবিটা শেয়ার করুন,আরো বেশী দর্শকের কাছে পৌঁছে দিন।

YouTube এ প্রচুর শর্ট ফিল্ম দেখা যায়, অনেক ভাল শর্ট ফিল্ম প্রচারের অভাবে পিছিয়ে থাকে, বিশেষ করে regional শর্ট ফিল্ম গুলো, এ নিয়ে কি মতামত?
প্রচারের অভাবে ভাল শর্ট ফিল্ম মানুষের কাছে পৌঁছায় না, কারন অধিকাংশ শর্ট ফিল্ম মেকারদের পর্যাপ্ত বাজেট বলে কিছু থাকে না। এই কারনে প্রমোশন ঠিকমত হয় না,তাই দর্শক হয়তো ছবিটার ব্যাপারে জানতেই পারলো না। তাই এক্ষেত্রে একমাত্র উপায়, ছবিটা নিজের পরিচিতমহলে শেয়ার করা। মেকারস্ টিম এবং দর্শক, দুজনকেই এটা করতে হবে। নিজের কাজের ব্যপারে কোন লেখা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারলেও মানুষ জানতে পারবেন।

আপনাকে আবার কবে পর্দায় দেখা যাবে?
পরের বছর একটা ফিচার রিলিজ হবে, "দ্যা ব্রোকেন লাইনস্", সুমন মৈত্র-এর ছবি। সেখানে ফিমেল প্রোটাগনিস্ট আমি। এই ছবিটা '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। চরিত্রটাও সম্পূর্ণ অন্যরকম। 

কথোপোকথন- প্রসেনজিত চৌধুরী


আপনার কাজ ইতিমধ্যে একটা দেশের বাইরের project এ দেখা যাচ্ছে, হাতে অনেক কাজ, তবু শর্ট ফিল্ম-এর জন্য সময় বার করা?
হা, আমি কিছুদিন আগে বাংলাদেশের একটা চ্যানেলের জন্য একটা ট্র্যাভল শো শুট করেছি থাইল্যান্ডে। কিছুদিন আগে উনাদের জন্য একটা টিভি সিরিজও করেছি। কাজের ক্ষেত্রে কোনটা করে মজা পাচ্ছি সেটাই বিচার করি। এটাও ঠিক যে সব কাজে সেই মজা পাই না। গত বছর বেশ কিছু ভাল মানুষের সাথে কাজ করেছি। তবে আমি নিজের কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারিনা। মনে হয় আরো ভাল করা যেতো। আর শর্ট ফিল্ম আমার মা বাবার মত। আমার কাজ শেখার সবটাই শর্ট ফিল্ম দিয়ে শুরু। সেটার জন্য সময় থাকবেই।

শর্ট ফিল্ম-এর ভবিষ্যৎ নিইয়ে কতটা আশাবাদী?
শর্ট ফিল্ম, ওয়েব সিরিজ নিয়ে আমি ভীষণভাবে আশাবাদী। কারন এখন বেশ কিছু কর্পোরেট কোম্পানি ব্যাপারটা সাপোর্ট করছেন। আর এখন মুঠোফোনেই দুনিয়া! তাই শর্ট ফিল্ম-এর ভবিষ্যৎ যে খুব ঝকঝকে টা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। 

শর্ট ফিল্ম -এ বাজেট আরো সীমিত, প্রোফেসনাল ভাবে কাজ করা কতটা সম্ভব হয়?
প্রোফেসনাল শব্দটার অনেক গুলো মানে! যদি যন্ত্রপাতির কথা বলেন তবে বলব বাজেট মাথায় রেখে প্রোফেসনাল এবং ঘরোয়া পদ্ধতি মিলিয়ে কত কম কম্প্রেমাইজ করা যায়, সেটাই আসল চ্যালেঞ্জ। 

পরিচালকের চোখ, নাকি শুধুই নিজের চোখ, কোন্টাকে বেশী  গুরুত্ব দেন?
পরিচালকের মস্তিষ্ক , হৃদয় আর চোখ আর আমার চোখ, হাত আর হৃদয়। আমার কাছে ব্যাপারটা এরম। মাকে ৩-৩ এ টাই হলো!

রজতের সাথে ২য় কাজ, কেমন অভিজ্ঞতা?
রজতকে আমার ভাই বললেও কম বলা হয়। ওর সাথে অনেক দিনের আলাপ। তাই আমাদের সিঙ্ক্রোনাইজেশনটা খুব ভাল। আর রজত বেশ ফোকাসড। আমাদের বঝা পড়াটাও বেশ দারুণ। আর পোস্ট প্রোডাকশন ওর বড় স্ট্রেন্থ। ওটা ওর হাতের মুঠোয়।

নতুন পরিচালকদের সাথে কাজ করতে গিয়ে নিজের ভাবনার সাথে না মিললে কি করেন?
নতুন হোক বা পুরোনো, ভাবনাটা তারই। অনেকদিন আগে সত্যজিত রায়ের একটা কথা পড়েছিলাম – “It is dangerous for a cameraman to put forward creative suggestions unless he has the full emotional and visual sweep of the film in his head. If he does not, he should be content to do as the director tells him.” এটা আমি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলি।

এখন কোন project এ কাজ চলছে?
সৌমভ ব্যানার্জীর একটা ছবি প্রায় তৈরী। পরেরটা শুরু করেছি। বাকিগুলোর ব্যাপারে বলাটায় এখন একটু বারণ আছে। (হাসি) 

কথোপোকথন- রজত সাহা 


আবার একটা শর্ট ফিল্ম, কেমন অভিজ্ঞতা?
অভিজ্ঞতা নতুন কিছু না। সেই কিছু সামান্য টাকা, কয়েকজন টিম মেম্বার , একটা ক্যামেরার মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা। 

শর্ট ফিল্ম-এর ভবিষ্যৎ নিইয়ে কতটা আশাবাদী?
দেখুন সত্যি বলতে যেটুকু টাকা ঐ ইউটিউব  থেকে আসে আর কি। আপনি   কলকাতার শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল গুলোতে গেলে দেখবেন মিডিয়ার অনেক লোকজন বড় বড় কথা বলছে। অনেকে নাকি ছোট ছবি নিয়ে অনেক কিছু ভাবছেন। বিশ্বাস করুন , এই লোক গুলকেই যখন ম্যসেজে আমাদের ফিল্মের লিঙ্ক গুলো দিই, খুলেও দেখেনা। ঐ কবে একটা  “অহল্যা”  বা কিছু হল তাই নিয়েই পড়ে আছে। কিন্তু অচেনা মুখ কিন্তু ভালো ছোট ছবি, কেও নিজের টাইম আর ইন্টারনেট ডাটা খরচা করে দেখেনা। এদের চেয়ে আপনি ফেসবুকের সাধারন মানুষের একশ জনকে লিঙ্ক পাঠান অন্তত চল্লিশ জন খুলে দেখবে আর কুড়িজন জানাবে কেমন হয়েছে ছবিটা। তাই এখন পুরো ব্যাপারটাই হল কে কেমন ইন্টারনেট টা ব্যবহার করছে। আর বাজেট না থাকলে তো লড়াই আরও কঠিন। তবে এবারে মনে হচ্ছে ফ্রি ফোর-জি এর দৌলতে ২-১ টা বেশি লোককে দর্শক হিসেবে পাব (হাসি)। 

রিকের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
রিক মানে অনশু। হ্যাঁ ও তো আমার থেকেও সিনিওর এখানে। অনেকের সাথে কাজ করেছে। আমি কেন, বরং ও যদি বলে আমার সাথে ভাল লেগেছে আমি একটু হলেও ধন্য হব।  
শর্ট ফিল্ম তৈরী করার যে হিড়িক উঠেছে সেটা নিয়ে কি মতামত?
এখন সেই হিড়িকে তো আমিও আছি। তবে আমরা যখন শুরু করেছিলাম তখন ভাবতাম ক্যামেরা কেনা আর একটা প্রিমিয়ার এ সিন জোড়া লাগাতে পারলাম মানেই আমি সিনেমা বানিয়ে দিতে পারব। এখন বুঝেছি কি বিশাল পড়াশুনার প্রয়জন। সেটা আপনি আমাদের প্রথম ছবি আর আজ “গুডবাই” ,  “ফিলিং লাভড” দেখলেই বুঝবেন। এখনও অনেক কিছু  ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয়, শেখার জন্য। এরকম অনেক  ছোট ছবির পরিচালককেই পাবেন। এক এক জন এমন আছে যে তারা টিফিন বাঁচানোর টাকায় এমন একটা ৫ মিনিটের সিনেমা বানিয়ে দেবে যে বড় বড় পরিচালকদের সেটা বানাতে লাখ টাকা লাগবে। আবার এমন অনেক আছে যাদের জন্য ,বার বার আমাদের শুনতে হয় “ শর্ট ফিল্ম তো এখন সবাই বানায়, তুমি বাপু পড়ে এসো” । 

শর্ট ফিল্ম-এর Sponsor যোগার করা কতটা কঠিন?
মারাত্তক , তবে ভাল স্টার  থাকলে আর লিংক থাকলে অতটাও চাপ না। তবে স্পনসর জোগাড়ের ক্ষেত্রে হিন্দি ভাষা এখনও অনেক এগিয়ে আছে। যেহেতু দর্শক সংখ্যা বেশি। ইন্টারনেটে রিচ বেশি পায়।  

রম-কম কে বাছলেন কেন?
রম কম আমার প্রিয়। একটা অদ্ভুত এন্টারটেনমেন্ট আছে। তাই এবারে এটাই ট্রাই করলাম। কতটা কি হয়েছে সেটা এখন বাকিরা বলবে। 

দর্শকদের কি বলবেন?
সবার প্রথমে বলব প্লিস শেষ অবদি দেখুন সিনেমা টা। আর পারলে টানা দেখুন। মাঝে উঠে যাবেন না। আর দেখা হলে প্লিস শেয়ার করুন। আমাদের কোন টেলিভিশন রাইট নেই বা হল  কালেকশন নেই। যা হয় ইন্টারনেটে। তাই প্লিস শেয়ার করে আরও মানুষ কে দেখতে উৎসাহিত করুন। এতে আমরাও উৎসাহিত হব আর আরও কিছু নতুন নতুন ছোট ছবি বানাতে পারব। আর অবশ্যই ভুল গুলো শুধরে দিন।

পরের project নিয়ে কোন চিন্তা ভাবনা?
আরে আগে টাকা জমুক তারপর ভাবব (হাসি)
Full length করার ইচ্ছে আছে নিশ্চই?
একটা প্রডিউসার দেখে দিন, ঠিক হয়ে যাবে। (হাসি)

সম্পূর্ন সিনেমাটি দেখুন এইখান থেকে



আমাদের উপপদ এর সরঞ্জাম গুলি

আপনার মন্তব্য