শনিবার - কলকাতা



ফিল্ম সমালোচনা: তনু ওয়েডস মনু রিটার্ন্স

Written by Dipashri Bardhan, Posted on 2015-05-24,02:52:37 a

Critics Rating :
User Ratings :
Your Rating :

Tanu Weds Manu Returns,Tanu Weds Manu Criticism,Tanu Weds Manu Review,Tanu Weds Manu Rating

এক কথায়, প্রচণ্ডরকমের over rated সিনেমা। সকালে অন্য দের সমালোচনা দেখছিলাম, 'A milestone you can't miss'. বাপ রে। এরকম milestone miss করা যায় নাকি ? একদম না। প্রথম সারিতে বসে দেখলাম সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে।

দেখে ঘাড়ে ব্যথা, মনে ব্যথা, দিব্যি বোকা বানিয়ে দিল তো। এজন্যই বিজ্ঞজনেরা বলে গেছেন, পরের মুখের ঝাল খেতে নেই। নিজে চেখে দেখতে হয় নুন ঠিক আছে কিনা, ঝাল বেশী হয়ে গেল কিনা। কারুর নুনটা কম হলে ভাল লাগে, তো কারুর ঝালটা বেশী সুস্বাদু লাগে। নিজে দেখুন, নিজে ভাল মন্দ বিচার করুন।

প্রথমত সিনেমার শুরু ভাল লাগেনি। পুরো সিনেমা জুড়ে প্রচুর সুন্দর সুন্দর one liners আর মজার ডায়ালগ আছে কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় অবাস্তব ব্যাপারটা চোরাবালির মত এসে আমেজটা নষ্ট করে দিচ্ছে। যেমন দিল্লি ইউনিভার্সিটিতে বড় ডাক্তার মনোজ শর্মা বক্তৃতা দিতে গিয়ে কুসুমকে দেখে এমনই বিহ্বল হয়ে পড়লেন যে আধা পড়াশোনা জানা পাপ্পিকে হৃদযন্ত্রের জটিল কাজ সংক্রান্ত মেডিক্যাল বক্তৃতা দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে চম্পট দিলেন। পরের দৃশ্যে যেখানে পাপ্পিকে ছাত্রছাত্রীরা নানারকম প্রশ্ন করছে আর পাপ্পি উত্তর না দিতে পেরে সঙের মত সিনেমাহলের দর্শকদের হাসানোর চেষ্টা করছে, আমার মতে এটা সিনেমার দুর্বলতম দৃশ্য। আমার অন্তত একদমই হাসি পায়নি, বিরক্তি লাগছিল।

কঙ্গনা রাণাওয়াৎ অসাধারণ অভিনেত্রী সবাই জানে। তিনি একাই প্রায় পুরো সিনেমাটা টেনে নিয়ে গেছেন। হরিয়ানার ভাষায় চমৎকার সাবলীলতা দেখানোর পাশাপাশি ডাবল রোলের দুই জায়গাতেই তিনি স্বাতন্ত্র ধরে রেখেছিলেন। কঙ্গনাকে দেখতে somehow আমার কোনওদিনই ভাল লাগেনা, চুলগুলো কেমন উস্কো খুস্কো, ঠোঁটের উপরটা বাঁকা, 'ত' উচ্চারণ করার সময় জিভ বের করে বলেন, মানে হিন্দি সিনেমার তথাকথিত নায়িকাসুলভ কমনীয়তা দেখিনা তাঁর মধ্যে, যদিও আকর্ষণীয় একটা ব্যাপার আছে সবমিলিয়ে। মাধবনকে আমার এমনিতেই ভাল লাগে, সেই যখন থেকে তিনি Zee TV-র Sea Hawks করতেন। মোটা হয়ে গেছেন যদিও তবুও ঐরকম একটা look বা image আছে ওনার যেটা অনেক মেয়েরা পছন্দ করে - someone I can depend totally. আর ঠিক এইকারণেই তাঁর expression-এ তেমন বৈচিত্র না থাকলেও দারুণ মানিয়ে গেছে। দীপক ডোবরিয়াল আর স্বরা ভাস্কর যথাযথ।

গানগুলো শ্রুতিমধুর। মেকআপ আর্টিষ্ট কুসুমের মেকআপ ঠিকমতো করেননি। কঙ্গনার গলার তিলটা এতটাই স্বচ্ছ যে সাদা কনক্লিয়ার কাজ করেনি। পরচুলাটাও সহজেই চোখে পড়ছিল।

পরক্রিয়া নিয়ে সিনেমা বানাতে গেলে পরিচালকরা সাধারণত একটু বেশী সংবেদনশীল হয়ে পড়েন, যতই দোষ বা অসুবিধা থাকুক স্বামী স্ত্রী দুজনে দুজনের কাছে ফিরতে বা ভালবাসতে বাধ্য এরকম একটা conclusion বানিয়ে ছাড়েন। সে সিলসিলা-ই হোক বা এই ফিল্ম। মাঝখানে করণ জোহর একটু অন্যরকম conclusion (Kabhi Alvida Na Kehna) দেখাতে গিয়ে বক্স অফিসে মার খেয়েছেন, সুতরাং হিমাংশু শর্মা (story writer of this movie) আর chance নেননি। তনু'র একগাদা attitude problem থাকলেও Manu is supposed to return to her for she is his wife. মাঝখান থেকে প্রেম উপেক্ষিত, সামাজিক দায়িত্ব প্রশংসিত।



আমাদের উপপদ এর সরঞ্জাম গুলি

আপনার মন্তব্য